দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নারী শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষকে নিয়ে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে মোরশেদ আলম আদিব নামে এক শিক্ষার্থীকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা তাঁকে কলেজের হোস্টেল থেকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। মোরশেদ আলম ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থী। তিনি ফেনী পলিটেকনিক শাখা শিবিরের সক্রিয় কর্মী বলেও জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আদিব তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ইনস্টিটিউটের নারী ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে একটি পোস্ট দেন। বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নজরে আসার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরে কলেজের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অভিযোগের দায় স্বীকার করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান। এরপর তাঁকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়।
ফেনী পলিটেকনিক ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল মোঘল বলেন, ঘটনার সময় তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে দ্রুত ক্যাম্পাসে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং বিষয়টি কলেজ শিক্ষকদের জানান।
শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আদিব আমার সহপাঠী। সে যেভাবে আমাদের সহপাঠী বোনদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তার বহিষ্কার দাবি করছি।’
ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ রূপক কান্তি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ফেসবুকে নারী শিক্ষার্থী ও কলেজ অধ্যক্ষকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে পোস্ট দিয়েছেন। বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলার পরিপন্থী। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অভিযোগের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।
উপাধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আপাতত কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ করা হচ্ছে না। তাঁর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিবার ক্যাম্পাসে এলে তাঁকে তাদের জিম্মায় দেওয়া হবে। এর আগ পর্যন্ত তিনি পুলিশের হেফাজতে থাকবেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার কলেজ প্রশাসনের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত মোরশেদ আলম আদিব নিজেকে শিবির কর্মী দাবি করে বলেন, তার ভুল হয়েছে। তিনি সকলের কাছে এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থী।
কেএম